Skip to main content

Posts

হজরত ফাতেমা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী : মুফতি রাশেদ মাহমুদ

হজরত ফাতেমা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পৃথিবীতে এমন কয়েকজন অসাধারণ মানুষ জন্ম নিয়েছেন যাঁরা মানবজাতির চিরন্তন গৌরব, যাঁরা আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার মডেল। এ ধরনের মানুষ পৃথিবীতে জন্ম না নিলে আদর্শের দিক থেকে মানবজাতির মধ্যে বিরাজ করতো ব্যাপক অপ‚র্ণতা এবং আদর্শিক শ‚ণ্যতা ও আধ্যাত্মিক অপ‚র্ণতার অশেষ ঘ‚র্ণাবর্তে মানবজাতি হতো বিভ্রান্ত,ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নতির সোপান থেকে চিরকালের জন্য থাকতো পিছিয়ে। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে তিনি এমন কয়েকজন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যাঁরা মানুষের জন্য সব ধরনের পূর্ণতা ও উন্নতির আদর্শ।  নবী-নন্দিনী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) সেইসব অসাধারণ মানুষেরই একজন। এটা স্বাভাবিক যে এ ধরনের মানুষের অকাল বিদায় বা বিয়োগ-বিধুর শাহাদত শোকের সাহারায় সৃষ্টি করে অনন্ত মাতম। শোকের এই অনন্ত মাতমে একদিকে যেমন তাঁদের প্রতি খোদাভীরু মানুষের শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসা বিধৃত হয়, তেমনি শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঐসব মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও সুদৃঢ় করা সম্ভব হয়।। হজরত ফাতেমা (রা.) ছি...
Recent posts

মহানবী (সা.)-এর জনসেবামূলক কার্যক্রম : সংগৃহিত-কালের কন্ঠ

মহানবী (সা.)-এর জনসেবামূলক কার্যক্রম ইজাজুল হক   প্রিন্ট অ-   অ   অ+ মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন গণমানুষের মহান সেবক। মানুষের কল্যাণে তিনি ছিলেন সদা নিবেদিতপ্রাণ। নবুয়তপ্রাপ্তির আগে থেকেই তিনি জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমৃত্যু তিনি মানুষের সেবায় কাজ করেছেন। মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। গ্রহণ করেছেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন মানবসেবায় ব্রতী হতে। ধর্ম-বর্ণের বৃত্তের বাইরে গিয়ে নানা জনহিতকর কাজ করার মহান শিক্ষা তিনি প্রচার করেছেন। নবুয়তপ্রাপ্তির আগে রাসুলের মানবসেবা নবুয়তপ্রাপ্তির আগে থেকেই রাসুল (সা.) একজন নিঃস্বার্থ জনসেবক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। যুগ যুগ ধরে চলে আসা আরবের হানাহানি, যুদ্ধবিগ্রহ ও অরাজকতা নিরসন করার লক্ষ্যে যখন জনকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন রাসুল (সা.) তাতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সেই সংগঠনের কর্মসূচি ছিল এ ধরনের : ক. দেশ থেকে অশান্তি দূর করা খ. বহিরাগতদের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান গ. নিঃস্ব-অসহায়দের স...

মুহাররম মাস : আশুরার তাৎপর্য, ইতিহাস ও আমাদের করণীয় : মুফতি রাশেদ মাহমুদ

মুহাররম মাস : আশুরার তাৎপর্য, ইতিহাস ও আমাদের করণীয় আরবি বছরের প্রথম মাস মুহাররম। আরবি বারটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন-হাদিছে ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। আসমান-জমিন সৃষ্টিকাল হতেই এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে  আসছে। এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহাররমকে পবিত্র “আশূরা” বলে অবহিত করা হয়। সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে আশুরার এই দিনে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে,  যা আমরা কুরআন ও হাদিছ থেকে জানতে পারি। হাদিছে এসেছে - আল্লাহ তায়ালা যে দিনে আকাশ, বাতাশ, পাহাড়, পর্বত, নদী, নালা, লাউহে মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টিজীবের আত্মা সৃষ্টি করেছেন সে দিনটি ছিল ১০ই মুহাররম তথা আশুরার দিনে।আবার সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয়  এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয় বলে এই মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। আশুরার ইতিহাস :হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় পৌঁছেন, তখন তিনি দেখলেন যে মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলে...

নামাজে আমীন নীরবে না জোরে? : মুফতি হুমায়ুন কবির খালভী

নামাজে আমীন নীরবে না জোরে? নামাজে আমীন নীরবে না জোরে? ‘আমীন’অর্থ হে আল্লাহ আমাদের দোয়া শুনুন ও কবুল করুন!তা ফয়ীলুন- এর ওজনে এবং এর আলিফকে টানাও যাবে। কেউ কেউ বলেন, তা আল্লাহর নাম। এক সাহাবির আছরে এসেছে, এটি আল্লাহর সিলমোহর। তা বান্দাহর উপর আল্লাহর সিল যার মাধ্যমে বিপদ ও মসীবত দূর করা হয়। যেমন কোনো চিঠিতে সিল মারলে তা সংরক্ষিত থাকে। (বগভী, শরহুস সুন্নাহ, খ-৩ পৃ.৬৩) সাধারণত ‘আমীন’ ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ে পড়বে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) যদিও ইমাম না পড়ার কথা বলেছিলেন, পরে তা থেকে তিনি ফিরে এসেছেন। আস্তে ক্বেরাতের নামাজে কিন্তু মুক্তাদির ‘আমীন’ পড়তে হবে না; কেননা, তখন তারা সূরায়ে ফাতিহা শুনে না। বর্তমানে ফরয নামাজে ইমামের পেছনে আমীন পড়া নিয়ে মতানৈক্য দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রায়ই তো নীরবে পড়ে; তবে বর্তমানে কিছু লোককে বড় করে ‘আমীন’ বলতে দেখা যায়, যার কারণে অনেক সময় ইমাম সাহেব ও অন্যান্য মুক্তাদিগণ নামাজে বিব্রত বোধ করেন। নামাজে সূরায়ে ফাতিহা শেষে ‘আমীন’ বলা সুন্নাত; তাতে কারো দ্বিমত নেই। তেমনি ‘আমীন’ সূরায়ে ফাতিহার অংশ নয়; তাতেও কারো দ্বিমত নেই। সাধারণত ‘আমীন’ আস্তে পড়া বা ...

সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দয়িত্ব ও কর্তব্য : মুফতি রাশেদ মাহমুদ

সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দয়িত্ব ও কর্তব্য সন্তান আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নিয়ামত। সন্তান লালন-পালনে পিতা-মাতার করণীয় প্রতিটি মানুষই বিবাহিত জীবনে প্রবেশের পর সন্তান কামনা করেন। অধিকাংশ দম্পতিই হন সন্তানের গর্বিত পিতা-মাতা। কিন্তু মনে রাখতে হবে শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে পিতা-মাতা হওয়াই যথেষ্ট নয়। সবাইকে হতে হবে দায়িত্বশীল পিতা-মাতা। অন্যথায় দুনিয়াতে যেমন রয়েছে ভোগান্তি, আখিরাতেও রয়েছে তেমনি অশান্তি এবং অপেক্ষমান নিচ্ছিদ্র জবাবদিহিতা। কারণ, সন্তান হলো পিতা-মাতার কাছে আল্লাহ প্রদত্ত আমানত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর সবাই তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল; তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ দায়িত্বশীল তার পরিবারের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। মহিলা দায়িত্বশীল তার স্বামীর গৃহের (তার সম্পদ ও সন্তানের); সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। ভৃত্যও একজন দায়িত্বশীল, সে জিজ্ঞাসিত হবে তার মুনিবের সম্পদ সম্পর্কে। (এককথায়) তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে।’ [সহীহ বুখা...