Skip to main content

মুহাররম মাস : আশুরার তাৎপর্য, ইতিহাস ও আমাদের করণীয় : মুফতি রাশেদ মাহমুদ

মুহাররম মাস : আশুরার তাৎপর্য, ইতিহাস ও আমাদের করণীয়

আরবি বছরের প্রথম মাস মুহাররম। আরবি বারটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন-হাদিছে ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। আসমান-জমিন সৃষ্টিকাল হতেই এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে  আসছে। এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহাররমকে পবিত্র “আশূরা” বলে অবহিত করা হয়। সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে আশুরার এই দিনে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে,  যা আমরা কুরআন ও হাদিছ থেকে জানতে পারি। হাদিছে এসেছে - আল্লাহ তায়ালা যে দিনে আকাশ, বাতাশ, পাহাড়, পর্বত, নদী, নালা, লাউহে মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টিজীবের আত্মা সৃষ্টি করেছেন সে দিনটি ছিল ১০ই মুহাররম তথা আশুরার দিনে।আবার সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয়  এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয় বলে এই মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
আশুরার ইতিহাস :হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় পৌঁছেন, তখন তিনি দেখলেন যে মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আশুরার দিনে তোমরা রোজা রেখেছ কেন? তারা উত্তর দিল, এই দিনটি অনেক বড়। এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন আর ফিরআউন ও তার বাহিনীকে নীল নদে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা (আ.) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। তাদের উত্তর শুনে নবী করিম (সা.) বললেন, হযরত মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং উম্মতকে তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করলেন। (বুখারি-৩৩৯৭, মুসলিম-১১৩৯)এছাড়াও ইসলামের আরো অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে এ আশুরাতেই।
আশুরার সংঘঠিত ঘটনাসমূহ : আশুরার দিন বা মহররমের ১০ তারিখ যেসব তাৎপর্যময় ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল, সংক্ষেপে সেগুলো হলো : ১. এ দিনে আল্লাহ তাআলা সমগ্র ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেন। আর এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। ২. এ দিনে হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় নেমে আসেন। মহররমের ১০ তারিখে আল্লাহ পাক আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল করেন এবং এ দিনে তিনি স্ত্রী হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে সাক্ষাৎ করেন। ৩. হজরত নুহ (আ.)-এর জাতির লোকেরা আল্লাহর গজব মহাপ্লাবনে নিপতিত হওয়ার পর ১০ মহররম তিনি নৌকা থেকে ঈমানদারদের নিয়ে ইরাকের জুদী পর্বতে অবতরণ করেন। ৪. হজরত ইবরাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ৪০ দিন পর ১০ মহররম  সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেন। ৫.হজরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগে ভোগান্তির পর মহররমের এ দিনে আল্লাহর রহমতে সুস্থতা লাভ করেন। ৬. হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.) তাঁর ১১ ভাইয়ের ষড়যন্ত্রে কূপে পতিত হন এবং এক বণিক দলের সহায়তায় মিসরে গিয়ে হাজির হন। তারপর আল্লাহর বিশেষ কুদরতে তিনি মিসরের প্রধানমন্ত্রী হন। ৪০ বছর পর ১০ মহররম পিতার সঙ্গে মিলিত হন। ৭. হজরত ইউনুস (আ.) জাতির লোকদের প্রতি হতাশ হয়ে নদী অতিক্রম করে দেশান্তরিত হওয়ার সময় নদীর পানিতে পতিত হন এবং মাছ তাঁকে গিলে ফেলে। মাছের পেট থেকে তিনি আল্লাহর রহমতে ৪০ দিন পর মুক্তি পান ১০ মহরররে এই দিনে। ৮. হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের অত্যাচারের কারণে তাঁর দলবলসহ অন্যত্র চলে যান। পথিমধ্যে নীল নদ পার হয়ে তিনি ফিরাউনের হাত থেকে আশুরার দিন মুক্তি পান। আর ফিরাউন তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে নিমজ্জিত চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যায়। ৯. হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির লোকেরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করলে মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহ পাক তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তি দান করেন। ১০. মহররম মাসের ১০ তারিখ কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার অবতারণা হয়। এদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।
আশুরার আমল : এক. আশুরার দিন রোজা রাখা এবং আশুরার আগে বা পরে আরো একটি রোজা মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা। দুই. পরিবারের জন্য উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করা।
আশুরার তাৎপর্য ও আমাদের করণীয় :
ইসলামের ইতিহাসে ওপরে উল্লিখিত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাগুলো মুহররাম মাসে সংঘটিত হওয়ার কারণে এ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাস অতি সম্মানিত, বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। আশুরার এদিনে অনেক আম্বিয়ায়ে কেরাম আল্লাহ পাকের সাহায্য লাভ করেন এবং কঠিন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভ করেন। এই সাহায্যের শোকরিয়া হিসেবে নবী-রাসুলরা ও তাঁদের উম্মতরা এদিনে রোজা পালন করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)  থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মদিনায় এসে দেখেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তিনি জানতে পারলেন, এদিনে মুসা (আ.) তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এদিনে তিনি ও তাঁর জাতির লোকেরা নীলনদ পার হয়ে ফিরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভ করেন। তাই এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য মুসা (আ.)-এর অনুসারী ইহুদিরা এদিন রোজা রাখে। তখন মহানবী (সা.) ইহুদিদের লক্ষ্য করে বলেন, তোমাদের তুলনায় মুসা (আ.)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অধিকতর বেশি। সে হিসেবে এ ব্যাপারে আমরাই এর বেশি হকদার।’ তখন থেকে মহানবী (সা.) নিজেও আশুরার রোজা পালন করতেন এবং উম্মতকেও তা পালনের নির্দেশ দিলেন।’ (মিশকাত শরিফ)হযরত আলী রা.  কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেন, রমযানের পর আর  কোনো মাস আছে কী, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূল (সা.)-এর নিকটও জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, “রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তায়ালা একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তাওবা কবুল করবেন।” (জামে তিরমিযী, খ-১, পৃ. ১৫৭)
আশুরার রোজার সাথে আরো একটি রোজা মিলিয়ে রাখার নির্দেশ : মুসলিম শরিফের এক হাদিসে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সা.) ইহুদি-নাসারারাওতো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসূলূল্লাহ (সা.) বললেন, “তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে আগামী বছর ইনশাআল্লাহ আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব।” (মুসলিম-১১৩৪)
আশুরার রোজার রাখার মুস্তাহাব দিন : ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর সাথীবৃন্দ, ইমাম আহমাদ, ইমাম ইসহাক প্রমুখ বলেছেন, আশুরার রোজার ক্ষেত্রে দশম ও নবম উভয় দিনের রোজাই মুস্তাহাব। কেননারাসূল (সা.) দশম তারিখ রোজা রেখেছেন এবং নবম তারিখ রোজা রাখার নিয়ত করেছেন।
আশুরার রোজার ফজিলত : হযরত আবু কাতাদা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়।” (মুসলিম-১১৬২) মহররম মাসের রোজা সম্পর্কে অনেক বিশুদ্ধ হাদিছ বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তদুপরি নিম্নে কয়েকটি হাদিছ উপস্থাপন করা হল। হাদিছ থেকে জানা যায়, রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজাই উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর ফরজ ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই বিধান রহিত হয়ে তা নফলে পরিণত হয়। হাদিছটি হলো, “রমজান মাসের  রোজার পর সর্বোত্তম রোজা আল্লাহর মাস মহররমের আশুরার রোজা।” (সুনানে কুবরা, ৪২১০) হযরত জাবের (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, “রাসূল (সা.) আমাদের আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। এ বিষয়ে নিয়মিত তিনি আমাদের খবরা খবর নিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন আশুরার রোজার ব্যাপারে তিনি আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের খবরা খবরও নিতেন না। (মুসলিম: ১১২৮)
আমাদের বর্জনীয় :
আশুরায়  উদযাপিত কিছু বিদআত - আশুরার দিন লোকেরা সুরমা লাগানো, গোসল করা, মেহেদি লাগানো, মুসাফাহা করা, খিচুড়ি রান্না করা, অনেক এলাকায় দেখা যায় সত্তর দানার ভাত পাক করা, আনন্দ উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে থাকে। এ সম্বন্ধে শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) কে প্রশ্ন করা হলো, এর কোনো ভিত্তি আছে কি না? জবাবে তিনি বললেন, এসব অনুষ্ঠানাদি উদযাপন প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সহিহ কোনো হাদিছ বর্ণিত হয়নি এবং সাহাবাদের থেকেও না। চার ইমামসহ নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমও এসব কাজকে সমর্থন করেননি। কোনো মুহাদ্দিছ এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ও সাহাবাদের থেকে কোনো সহিহ কিংবা জয়ীফ হাদিছও বর্ণনা করেননি। তাবিয়ীদের থেকেও কোনো আছর পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে হযরত ইমাম হাসান-হোসাইন (রা.)-এর নামে যেভাবে হায় হুসাইন, ইয়া আলী বলে বুক চাপড়ানো, নিজেকে আঘাতের মাধ্যমে রক্তাক্ত করা, তাজিয়া মিছিল করা ইসলামে এর কোন কিছুরই গ্রহণযোগ্যতা নেই। বর্তমান সমাজে কিছু লোক শোহাদায়ে কারবালা নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে ইয়াজিদি কৃষ্টি কালচার বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত মুআবিয়া (রা.)-এর সমালোচনা করতেও কন্ঠাবোধ করে না। অথচ সাহাবায়ে কিরামগণ সমালোচনার উর্ধ্বে। রাসূল (সা.) সাহাবাদের সমালোচনার করতে ভয় প্রদর্শন করছেন। সাহাবাগণ আমাদের ঈমানের অঙ্গ।
অবশেষে, আশুরার মহাত্মতায় তা’জিয়া তথা কারবালায় সংঘঠিত হৃদয় বিদারক ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। কারবালার ঘটনা আশুরার দিনের সাথে মিলে যায় বলে আশুরার সেই দিবসে শুধুমাত্র কারবালার ইতিহাসকে স্মরণ করে সে দিনে তা’জিয়া ইত্যাদি করা শুভনীয় নয়। শিয়া সম্প্রদায়গণ আশুরার এই দিনে তা’জিয়া মিছিল, নিজেকে হায় হুসাইন বলে আঘাত করে রক্তাক্ত করে কারবালার ইতিহাসকে স্মরণ করে থাকে। তাদের দেখাদেখিতে আমরা মুসলিমরাও ঝাঁপ দিয়। অথচ রাসূল (সা.) আশুরার এই দিনের আমলের সাথে অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিরোধিতার শিক্ষা দিয়েছেন। শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, রাসুল (সা.) বহু হাদিসে আহলে কিতাবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন। যেমন আশুরা প্রসঙ্গে নবীজী বলেছেন, আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই নয় তারিখ রোজা রাখব। তবুও কারবালার ইতিহাসে রয়েছে আমাদের জন্য শিক্ষা। দ্বীনের পথে অবিচল থেকে কুসংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয় কারবালার সেই ইতিহাস। হযরত হুসাইন (রা.)-এর সেদিনের দৃঢ়প্রত্যয়ে অতুলনীয় আত্মত্যাগের দীক্ষা প্রতিটি আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যে কোনো আত্মত্যাগের প্রেরণায় নিজেকে ও সমাজকে উজ্জীবিত করতে। সুতরাং আশুরার সেই দিনে নানা কুসংস্কার পরিহার করে সঠিক শিক্ষা গ্রহন করি ও ইবরাহীমের (আ.) দৃঢ় ঈমানী মনোবল বক্ষে ধারণ করে নিজেকে ও সমাকে ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত করি এবং রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ মতো ইহুদী-নাছারার সাদৃস্য বর্জন করে আশুরার দিনে বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার ও দান-খয়রাত করে এবং পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে গুনাহ থেকে মাফ পাওয়ার চেষ্টা করি।
তাই আসুন! ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের ক্রান্তিলগ্নে আশুরার করণীয় ও বর্জনীয় নির্দেশনাবলী বক্ষে ধারণ করে পবিত্র এই আশুরাকে মনগড়া কুসংস্কারে না ভাসিয়ে আশুরার প্রকৃত আমলকে নিজেদের জন্য পরকালের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করি।

Comments

Popular posts from this blog

হজরত ফাতেমা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী : মুফতি রাশেদ মাহমুদ

হজরত ফাতেমা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পৃথিবীতে এমন কয়েকজন অসাধারণ মানুষ জন্ম নিয়েছেন যাঁরা মানবজাতির চিরন্তন গৌরব, যাঁরা আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার মডেল। এ ধরনের মানুষ পৃথিবীতে জন্ম না নিলে আদর্শের দিক থেকে মানবজাতির মধ্যে বিরাজ করতো ব্যাপক অপ‚র্ণতা এবং আদর্শিক শ‚ণ্যতা ও আধ্যাত্মিক অপ‚র্ণতার অশেষ ঘ‚র্ণাবর্তে মানবজাতি হতো বিভ্রান্ত,ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নতির সোপান থেকে চিরকালের জন্য থাকতো পিছিয়ে। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে তিনি এমন কয়েকজন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যাঁরা মানুষের জন্য সব ধরনের পূর্ণতা ও উন্নতির আদর্শ।  নবী-নন্দিনী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) সেইসব অসাধারণ মানুষেরই একজন। এটা স্বাভাবিক যে এ ধরনের মানুষের অকাল বিদায় বা বিয়োগ-বিধুর শাহাদত শোকের সাহারায় সৃষ্টি করে অনন্ত মাতম। শোকের এই অনন্ত মাতমে একদিকে যেমন তাঁদের প্রতি খোদাভীরু মানুষের শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসা বিধৃত হয়, তেমনি শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঐসব মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও সুদৃঢ় করা সম্ভব হয়।। হজরত ফাতেমা (রা.) ছি...

সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দয়িত্ব ও কর্তব্য : মুফতি রাশেদ মাহমুদ

সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দয়িত্ব ও কর্তব্য সন্তান আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নিয়ামত। সন্তান লালন-পালনে পিতা-মাতার করণীয় প্রতিটি মানুষই বিবাহিত জীবনে প্রবেশের পর সন্তান কামনা করেন। অধিকাংশ দম্পতিই হন সন্তানের গর্বিত পিতা-মাতা। কিন্তু মনে রাখতে হবে শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে পিতা-মাতা হওয়াই যথেষ্ট নয়। সবাইকে হতে হবে দায়িত্বশীল পিতা-মাতা। অন্যথায় দুনিয়াতে যেমন রয়েছে ভোগান্তি, আখিরাতেও রয়েছে তেমনি অশান্তি এবং অপেক্ষমান নিচ্ছিদ্র জবাবদিহিতা। কারণ, সন্তান হলো পিতা-মাতার কাছে আল্লাহ প্রদত্ত আমানত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর সবাই তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল; তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ দায়িত্বশীল তার পরিবারের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। মহিলা দায়িত্বশীল তার স্বামীর গৃহের (তার সম্পদ ও সন্তানের); সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। ভৃত্যও একজন দায়িত্বশীল, সে জিজ্ঞাসিত হবে তার মুনিবের সম্পদ সম্পর্কে। (এককথায়) তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে।’ [সহীহ বুখা...