হজরত ফাতেমা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
পৃথিবীতে এমন কয়েকজন অসাধারণ মানুষ জন্ম নিয়েছেন যাঁরা মানবজাতির চিরন্তন গৌরব, যাঁরা আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার মডেল। এ ধরনের মানুষ পৃথিবীতে জন্ম না নিলে আদর্শের দিক থেকে মানবজাতির মধ্যে বিরাজ করতো ব্যাপক অপ‚র্ণতা এবং আদর্শিক শ‚ণ্যতা ও আধ্যাত্মিক অপ‚র্ণতার অশেষ ঘ‚র্ণাবর্তে মানবজাতি হতো বিভ্রান্ত,ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নতির সোপান থেকে চিরকালের জন্য থাকতো পিছিয়ে। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে তিনি এমন কয়েকজন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যাঁরা মানুষের জন্য সব ধরনের পূর্ণতা ও উন্নতির আদর্শ। নবী-নন্দিনী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) সেইসব অসাধারণ মানুষেরই একজন। এটা স্বাভাবিক যে এ ধরনের মানুষের অকাল বিদায় বা বিয়োগ-বিধুর শাহাদত শোকের সাহারায় সৃষ্টি করে অনন্ত মাতম। শোকের এই অনন্ত মাতমে একদিকে যেমন তাঁদের প্রতি খোদাভীরু মানুষের শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসা বিধৃত হয়, তেমনি শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঐসব মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও সুদৃঢ় করা সম্ভব হয়।। হজরত ফাতেমা (রা.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর আদরের কন্যা। তিনি মুসলিম নারী সমাজের অনুপম উদাহরণ। তার যাপিত জীবন সব মুসলিম নারীর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। মহানবী (সা.) তার সম্পর্কে বলেছেন, ফাতেমা জান্নাতী মহিলাগণের সরদার।
নাম ঃ ফাতেমা, সিদ্দীকা, মুবারিকাহ্, তাহিরাহ্, যাকিয়্যাহ্, রাযিয়্যাহ্, মারযিয়্যাহ্, মুহাদ্দিসাহ্ এবং যাহরা।
ডাক নাম ঃ উম্মুল হাসান, উম্মুল হুসাইন, উম্মুল মুহ্সিন, উম্মুল আয়েম্মা এবং উম্মে আবিহা।
উপাধিঃ হযরত ফাতিমার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উপাধি হল যাহরা,যাকিয়াহ,বাতুল ও রাযিয়া। চারিত্রিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি আরও কিছু উপাধিতে ভ‚ষিত হন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলঃ সিদ্দীকা, কুবরা, মুবারিকাহ্, আযরা, তাহিরা এবং সাইয়্যেদাতুন নিসা।
পিতা ঃ ইসলামের মহা সম্মানিত রাসুল (সা.) হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ (সা.)।
মাতা ঃ ইসলাম গ্রহণকারী সর্বপ্রথম নারী, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সর্বপ্রথম স্ত্রী খাদীজাতুল কুবরা।
জন্ম ঃ আরবি জমাদিউসসানী মাসের বিশ তারিখে রোজ শুক্রবার,মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পঞ্চম বৎসরে,মক্কার প্রস্তরময় পর্বতের পাদদেশে,কা’বার সন্নিকটে,ওহী নাযিলের গৃহে,যে গৃহের অঙ্গন মহানবী (সা.)-এর খোদাপ্রেমিক মুখের পবিত্র ছটায় আলোকিত হতো,যে গৃহকে ফেরেশতারা ভাল করে চিনতো এবং সেখানে প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করতো,যেখানে সকাল সন্ধ্যায় রাস‚লে খোদার নামাজের গুঞ্জরন প্রতিধ্বনিত হতো এবং গভীর রাত্রিতে তাঁর তিলাওয়াতের আধ্যাত্মিক ধ্বনিতে জমিনের সাথে আসমানের সংযোগ স্থাপিত হতো,ইয়াতিমদের আশার কেন্দ্র,নিঃস্ব মানুষের সাহায্যকারী,বন্দী ও নিপীড়িতদের আশ্রয়স্থল,সেই গৃহে পয়গম্বর (সা.) ও হযরত খাদিজার গৃহে একটি কন্যা জন্মগ্রহণ করে। সন্তানঃ ইমাম হাসান মুজতাবা,ইমাম হুসাইন সাইয়্যেদুশ শুহাদা,জয়নাব আল কুবরা,উম্মে কুলসুম,মুহ্সিন (তাঁর গর্ভেই মারা যায়)।
শাহাদাত : মহানবী (সা.) ইন্তেকালের পর বিভিন্ন রকম দুঃখ-কষ্ট হযরত ফাতেমার অন্তরে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তাঁর জীবনটাকে অসহ্য করে তুলেছিল। তিনি তাঁর সম্মানিত পিতাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন এবং কখনো তাঁর বিচ্ছেদকে সহ্য করতে পারতেন না। একদিকে তাঁর জন্যে পিতার বিয়োগ ব্যথা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। অপরদিকে আমিরুল মুমিনীনের খেলাফতের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের আচরণ হযরত ফাতিমা আয যাহরার রুহ্ ও দেহে সাংঘাতিক ক্ষতের সৃষ্টি করে।আর এ মুছিবত ও দুঃখ কষ্ট ছাড়াও অন্যান্য ব্যথা বেদনা তাঁকে জর্জরিত করেছিল -যার অবতারণা থেকে এখানে বিরত থাকছি- এসকল কারণেই।হযরত ফাতেমা (আ.) পিতার ইন্তেকালের পর সর্বদা ক্রন্দনরত ও শোকার্ত ছিলেন। তিনি কখনো তাঁর পিতার কবর যিয়ারতে গিয়ে অনেক কাঁদতেন।আবার কখনো শহীদদের কবরের পার্শ্বে গিয়ে আহাযারী করতেন। আর নিজ গৃহে কান্না ও শোক পালন ব্যতীত অন্য কিছুই করতেন না। তাঁর ক্রন্দন ও রোনাজারীর ব্যাপারে মদীনাবাসীরা প্রতিবাদ করলে আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) তাঁর জন্যে ‘জান্নাতুল বাকী’ কবরস্থানের এক প্রান্তে একটি ছোট্ট ঘর তৈরী করে দেন যা পরবর্তীতে ‘বাইতুল আহ্যান’ বা ‘শোকের ঘর’ নামে আখ্যায়িত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে হযরত ফাতিমার মর্যাদা :
পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে হযরত ফাতিমার মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হল।
ক. স‚রা আহযাবের নিম্নোক্ত আয়াতে হযরত ফাতিমাকে নিষ্পাপ বলে ঘোষণা করা হয়েছে :
إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرً
রাস‚লুল্লাহ (সা.)-এর পোষ্য উমার ইবনে আবু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,উম্মে সালামা (রা.)-এর ঘরে নবী (সা.)-এর ওপর এ আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ) : হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দ‚র করতে এবং তোমাদেরকে সম্প‚ণһপে পবিত্র করতে। তখন নবী (সা.) ফাতিমা,হাসান ও হুসাইনকে ডাকেন এবং তাদেরকে একখানা চাদরে ঢেকে নেন। আলী তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি তাঁকেও চাদরে ঢেকে নেন। অতঃপর বলেন : হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত। অতএব,তুমি তাদের থেকে অপবিত্রতা দ‚র করে দাও এবং তাদেরকে উত্তমরূপে পবিত্র কর। তখন উম্মে সালামা বলেন,হে আল্লাহর রাস‚ল! আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বলেন,তুমি স্ব-স্থানে আছ এবং তুমি কল্যাণের মধ্যেই আছ।একই রকম হাদীস হযরত আয়েশা হতেও বর্ণিত হয়েছে।স‚রা আলে ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত অনুযায়ী (আয়াতে মোবাহিলায়) হযরত ফাতিমাকে রাস‚ললাহ (সা.) তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার সাক্ষী করেছেন। পবিত্র কুরআনের সেই আয়াতটি হল :
فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ
‘অতঃপর তোমার নিকট যখন জ্ঞান (কুরআন) এসে গেছে,এরপরও যদি কেউ (খ্রিস্টান) তোমার সাথে তার (ঈসার) সম্বন্ধে তর্ক-বিতর্ক করে,তবে বল,‘(ময়দানে) এস,আমরা আহŸান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের,আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের,এবং আমাদের সত্তাদের এবং তোমাদের সত্তাদের;’ অতঃপর সকলে মিলে (আলাহর দরবারে) নিবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষণ করি।’ঘটনাটি এরূপ : নাজরান থেকে আগত খ্রিস্টান প্রতিনিধি দলের সাথে যখন মোবাহিলা (পারস্পরিক অভিশাপ বর্ষণ) করার জন্য মহান আলাহ রাস‚লুলাহ (সা.)- কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন তিনি হযরত ফাতিমা,হযরত আলী,ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনকে সাথে নিয়ে উন্মুক্ত প্রান্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন। কুরআনে বর্ণিত পুত্রদের স্থানে তিনি নিজের দুই নাতি ইমাম হাসান ও হুসাইনকে,নারীদের স্থানে নিজ কন্যা হযরত ফাতিমাকে এবং ‘সত্তা’ বলে গণ্যদের স্থানে হযরত আলীকে নিলেন এবং দো‘আ করলেন,‘হে আল্লাহ! প্রত্যেক নবীর আহলে বাইত থাকে,এরা আমার আহলে বাইত। এদের সকল দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত ও পাক-পবিত্র রেখ।’ তিনি এভাবে ময়দানে পৌঁছলে খ্রিস্টানদের নেতা আকব তা দেখে বলল,‘আল্লাহর কসম,আমি এমন ন‚রানী চেহারা দেখছি যে,যদি এ পাহাড়কে নিজ স্থান হতে সরে যেতে বলেন,তবে অবশ্যই সরে যাবে। সুতরাং মুবাহিলা হতে হাত গুটিয়ে নেওয়াই কল্যাণকর,অন্যথায় কিয়ামত অবধি খ্রিস্টানদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।’ পরিশেষে তারা জিযিয়া কর দিতে সম্মত হল। এভাবে হযরত ফাতিমা তাঁর পিতার নবুওয়াতের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করলেন।
দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সমঝোতা :
আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) বলেন : “আল্লাহর শপথ,আমার দাম্পত্য জীবনে ফাতেমাকে তাঁর মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত কখনো রাগাইনি আর কোন কাজে তাকে বাধ্য করি নি। সেও আমাকে কখনো রাগান্বিত করে নি এবং কখনো আমার অবাধ্য হয় নি। যখনি তাঁর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতাম তখনি আমার দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যেত।
পর্দা :
ইমাম মুসা কাযেম (আ.) তাঁর পিতা ও পিতামহদের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন যে হযরত আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) বলেছেন : “একদিন এক অন্ধ ব্যক্তি ফাতেমার গৃহে প্রবেশের জন্যে অনুমতি চাইলে তিনি ঐ অন্ধ ব্যক্তিথেকে নিজেকে আড়াল করে রাখলেন । রাস‚ল (সা.) বললেন : হে ফাতেমা! কেন তুমি এই ব্যক্তিথেকে নিজেকে আড়াল করে রাখছো,সে তো অন্ধ,তোমাকে দেখছে না।? প্রতি উত্তরে ফাতেমা বলেন : যদিও ঐ অন্ধ লোকটি আমাকে দেখছেন না কিন্তু আমি তো তাকে দেখছি। এ অন্ধ ব্যক্তিটির নাসিকা গ্রন্থি তো কাজ করছে। তিনি তো ঘ্রান নিতে পারেন। এ কথা শুনে রাস‚ল (সা.) বলেন : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,তুমি আমার দেহের অংশ।”
হযরত ফাতেমা (রা.)-এর চারিত্রিক গুণাবলী :
হযরত ফাতেমা জোহরা হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কলিজার টুকরা ও নয়নের মনি। তাঁর নাম শোনেননি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। তিনি মুসলমান নারী সমাজের অহংকার। তিনি শুধু নবীর আদরের দুলালী এই পরিচয় দিলে কম হবে বরং তিনি ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদীনের চতুর্থ খলিফা ইসলামের বীর সৈনিক হযরত আলী (রা.) এর প্রিয়তমা স্ত্রী এবং ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম শহীদ হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের জননী। হাদীসের বর্ণনা হতে জানা যায়, নবী কন্যা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জান্নাতী নারীদের সর্দার হবেন। বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে উলেখ আছে প্রিয়নবী (স.) বলেন কলিজার টুকরা নয়নের মনি হযরত ফাতেমা। তাকে যে জন রাগান্বিত করল মনে রাখবে সে যেন আমাকে ক্রোধান্বিত করল এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটাল। অন্য হাদীসে নবী (স.) বলেন, 'জান্নাতের নারীদের মধ্যে চরজন নারী সর্বশ্রেষ্ঠ। এর মধ্যে হযরত জিব্রাইল (আ.) এর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, এবারও তার একটি কন্যা সন্তান হবে, যে কন্যা হবে জগত্ বরেণ্য, হযরত ফাতেমাকে আল্লাহ বিশ্ব বরেণ্য আদর্শ নারী রূপেই দুনিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল। যার কারণেই তাকে সর্বগুণে গুণান্বিত করে দুনিয়াতে পাঠালেন। হযরত ফাতেমা (রা.) এর চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে জানতে গেলে দেখা যায় যে, প্রিয় নবী (স.) এর চরিত্রের প্রতিটি গুণই তার জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ছিলেন সত্যের প‚জারী, আমানতদারী, লাজুক, নম্র ও সরলমনা। হযরত ফাতেমা শিশুকাল থেকেই শান্ত সরলমনা ছিলেন, তিনি কখনও কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ করতেন না বরং অন্য ছেলে মেয়েরা ঝগড়া করলে তার মিমাংসা করে দিতেন। সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করতেন তার সুন্দর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে নবী (স.) এর প্রধান শত্রুরাও তার প্রশংসা করতে ভুলতেন না। শৈশব থেকেই হযরত ফাতেমা ছিলেন নির্ভীক, তেজস্বিনী । তিনি উচিত কথা বলতে কাউকে ছাড়তেন না, সকল বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সর্বদা সত্য ও উচিত কথা বলতেন। তিনি সর্বদা তার পিতা হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আদর্শ অনুসরণ করতেন এবং মা বিবি খাজিদা (রা.) এর আদেশ ও উপদেশাবলী মনযোগ দিয়ে শুনতেন এবং বাস্তব জীবনে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। প্রকৃতপক্ষে পিতা মাতার শিক্ষাই হল জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। হযরত ফাতেমা (রা.) এর আদর্শ শিক্ষা এর জীবন চলার পথ নির্দেশীকা একমাত্র আদর্শ পিতা মাতার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে পিতা মাতার আদেশ নিষেধ উপদেশ তিনি তার জীবনে শ্রেষ্ঠ আদর্শ রূপে গ্রহণ করেছিলেন।তিনি কিশোর বয়স থেকেই অতি অল্প সময়ের মধ্যে দ্বীনের সকল তাযীম তারবিয়াত শিক্ষা অর্জন করেছেন। শিক্ষা, দীক্ষা, আদব, আখলাক, ধৈর্য্য, সবর, দানশীলতা, আতিথেয়তা, আমানতদারী, পিতা-মাতার আনুগত্য, আলাহভীরুতা তাকওয়া সুতী²প্রজ্ঞা চাল-চলন, কর্মস্পৃহা, শোয়া-বসা, খাওয়া-দাওয়া, ধ্যান-তপস্যা তাওয়াক্কুল ইত্যাদি সবগুণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত ফাতেমা (রা.)র ছিল। তিনি শুধু পিতা-মাতার কাছেই আদরের দুলালী ছিলেন না। বিবাহের পর তার স্বামী হযরত আলী (রা.) তাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তার শরীরের গঠন আবৃত্তি সৌন্দর্য রূপগুণ, ভদ্রতা, নম্রতা, আচার ব্যবহার দেখে নবী কন্যা হযরত ফাতেমাকে হযরত আলী (রা.) বিবাহের প্রস্তাব দেন। নবীও তার প্রস্তাব মেনে নিয়ে তার কাছে আদরের কন্যাকে সমর্পণ করেন। স্বামী গৃহে সব সময় তাকে কষ্ট করতে হতো। হযরত আলী (রা.) ছিলেন হত দরিদ্র। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তাদের না খেয়ে থাকতে হতো। তারপরও তিনি নিজেকে সব সময় খুশি রেখে ধৈর্য্যের সাথে সংসারের সকল কাজ করতেন।

Comments
Post a Comment